Recent

মোকদ্দমা প্রত্যাহার ও সমন্বয় (Withdrawal and adjustment of suit)

মোকদ্দমা প্রত্যাহার ও সমন্বয় (Withdrawal and adjustment of suit)



অনেক সময় অনেকের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন আসে যে, বাদী কর্তৃক মোকদ্দমা দায়ের করার পর কি তা প্রত্যাহার করা যায়? এর সংক্রান্ত বিষয়ে দেওয়ানী আইনে কি বলা হয়েছে। 

এ প্রশ্নের উত্তর আমরা জানতে পারি, দেওয়ানী কার্য বিধির আদেশ নং ২৩ এর বিধি ১ এ, 

আদেশ ২৩ বিধি-১ এ বলা হয়েছে, মোকদ্দমা দায়ের করার পর যে কোন সময় বাদী কর্তৃক সকল বিবাদী কিংবা নির্দিষ্ট কিছু বিবাদীর বিরুদ্ধে তাহার মামলা প্রত্যাহার করতে কিংবা তাহার দাবীর আংশিক পরিত্যাগ করিতে পারবে। 

বিধি-১ এর উপবিধি-২ এ বলা হয়েছে যে ক্ষেত্রে আদালতের নিকট ইহা সন্তোষজক  হয় যে, 

(ক) কিছু রীতি সিদ্ধ ত্রুটির (Formal defect) কারণে যদি মোকদ্দমা ব্যর্থ হয় ;

(খ) অথবা মোকদ্দমার বিষয় বস্তুর জন্য বা কোন দাবীর অংশের জন্য মোকদ্দমা পরিত্যাগ করে নতুন একটি মোকদ্দমা দায়েরের অনুমতি প্রাদানের জন্য অন্যান্য যথেস্ট অজুহাত থাকে, সেই ক্ষেত্রে আদালত সন্তষ্ট হয়ে যেরুপ উপযুক্ত মনে করে, বাদীকে উক্ত মামলার বিষয়বস্ত বা দাবীর কোন অংশের জন্যে নতুন মামলা রুজু করার স্বাধীনতা সহ মোকদ্দমা বা দাবী কৃত অংশের পরিত্যাগ করার অনুমতি দিয়ে পারেন।  

বিধি-১ এর উপ বিধি- ৩ এ বলা হয়েছে, যেক্ষেত্রে উপবিধি (২) এ আদালতের অনুমতি ছাড়া মোকদ্দমা বা দাবীর কোন অংশ প্রত্যাহার করবেন, সেই ক্ষেত্রে আদালত উক্ত মোকদ্দমা বা দাবীর কিছু অংশ প্রত্যাহার করবেন এবং আদালতের সিদ্ধান্ত মোতাবেদক, 

১। তাহাকে উক্ত মোকদ্দমার খরচাদি প্রদানের আদেশ দিবেন।

২। পুনরায় একই বিষয় বস্ত নিয়ে মোকদ্দমা দায়ের করার অধিকার থেকে বারিত করবেন, অর্থাৎ নতুন করে একই বিষয়ে মোকদ্দমা দায়ের করিতে পারিবেন না। 


রীতি সিদ্ধ ত্রুটি (Formal defect)  কি?

দেওয়ানী আইনে এ বিষয়ে উল্লেখ করা হলেও বিস্তারিত কোন বিবরণ দেয়া হয়নি, আদালতের বিভিন্ন নজির ও সিদ্ধান্ত থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়। রীতি সিদ্ধ ত্রুটি (Formal defect) হচ্ছে সেই ধরনের ত্রুটি যাহা মামলার যোগ্যতাকে (merit) কোনভাবে প্রভাবিত করেন না, এই ক্রটি সর্বদা মামলার কার্য প্রনালীকে আকর্ষন করে। রীতি সিদ্ধ ত্রুটি নালিশী দাখিল করার সময় প্রতীয়মান না হয়ে পরবর্তীতেও প্রমাণাদি উপস্থাপনের মাধ্যমেও প্রতীয়মান হতে পারে। 

আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছু রীতি সিদ্ধ ত্রুটির উদাহরনঃ

১। ভুল কোন পক্ষকে মোকদ্দমায় অন্তর্ভুক্ত করা ।অর্থাৎ, যে পক্ষের সাথে মোকদ্দমার বিষয়বস্তর  কোন সম্পর্ক নেই, সেই পক্ষকে মোকদ্দমায় জড়িত করা হলে ।

২। মোকদ্দমার মুল্যায়ন বিবরনী ভুল হলে, অর্থাৎ মোকদ্দমার মুল্যমান বেশী বা কম হিসেবে উল্লেখ করা হলে।

৩। আদালতের সঠিক খরচ বা কোর্ট ফি প্রদন না করা । অপর্যাপ্ত কোর্ট ফি প্রদান করা হলে ।

৪। মোকদ্দমার নালিশী সম্পত্তি চিহ্নিত বা শনাক্ত করন করা না গেলে।

৫। মামলার বিষয়বস্ত সৃষ্টির যথাযথ কারণ (Cause of action) উল্লেখ করতে ব্যর্থ হলে ।   

৬। যথাযথ প্রতিকার (Prayer for proper relief)  চাওয়া না হলে । এছাড়াও আরো রীতি সিদ্ধ ত্রুটি রয়েছে। 


এছাড়াও বিধি-১ এর উপবিধি-২ এর (খ) অনুযায়ী উপযুক্ত কোন অজুহাত থাকতে হবে, যেই ক্ষেত্রে সন্তষ্ট হয়ে আদালত মামলা প্রত্যাহার সহ একই বিষয়ে নতুন মোকদ্দমা দায়েরর অনুমতি দিতে পারবেন, বিভিন্ন উচ্চ আদালত এর সিদ্ধান্ত ও নজির থেকে কিছু উপযুক্ত অজুহাত (Sufficent ground) পাওয়া যায়, যেগুলো নিম্নরুপঃ

১। যদি মামলাটি খারাপভাবে গঠিত হয়, সেই ক্ষেত্রে এটি একটি উপযুক্ত কারণ ।

২। একই মোকদ্দমায় ভিন্ন ভিন্ন দাবী করা হলে বা ভিন্ন ভিন্ন দাবীর সংমিশ্রণ করা হলে ।

৩। গুরুত্ব পূর্ন কোন প্রমাণের (Substantial part of evidence)কোন অংশ সম্পুর্ন রুপে আদালত কর্তৃক শোনা/পর্যালোচনা করা না হলে।

৪। বিবাদী কর্তৃক কোন সাক্ষীকে উপস্থিত হতে বাধা প্রদান করায় সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রদান ব্যহত হলে ।

৫। সঠিক প্রমাণাদি সংযুক্ত করতে ব্যহত হলে । ও অন্যান্য অনেক উপযুক্ত কারণ রয়েছে।

উপরোক্ত যে কোন কারণে আদালত সন্তষ্ট হলে তবেই তিনি মোকদ্দমা বা দাবীর কোন অংশ প্রত্যহার করে নতুন করে উক্ত মোকদ্দমা বা দাবীর কিছু অংশের বিষয়ে মোকদ্দমা দায়েররের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন, ইহা সম্পুর্ন রুপে আদালতের ইচ্ছের উপর নির্ভর করে। 

তবে উল্লেখ্য যে, রীতি সিদ্ধ ত্রুটি টি গুরুত্বর হতে হবে ।

মোকদ্দমা বা দাবীর কিছু অংশ প্রত্যাহারের ধাপঃ

১। অপর পক্ষ / বিপরীত পক্ষ কে লিখিত নোটিশ প্রদান করিতে হবে।

২। নোটিশ প্রদানের পর এ বিষয়ে একটি পূর্নাঙ্গ শুনানী করিতে হইবে।

৩। আদালত যথাযথ খরচের আদেশ দিবেন। 

৪। আদালত মোকদ্দমা / দাবীর কোন অংশে প্রত্যাহারের উপযুক্ত অজুহাত বা কারণে সন্তষ্ট হলে মোকদ্দমা / দাবীর কোন অংশ প্রত্যাহার  করে উক্ত বিষয়ে মোকদ্দমা বা দাবী উত্থাপন করার অনুমতি দিবেন।

৫। আদালত চাইলে, মোকদ্দমা/ দাবীর কোন অংশ নিয়ে নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় বেধে দিতে পারেন। 

৬। আদালত মোকদ্দমা / দাবীর কোন অংশে প্রত্যাহারের উপযুক্ত অজুহাত বা কারণে সন্তষ্ট না হলে মোকদ্দমা / দাবীর কোন অংশ প্রত্যাহার  করার আবেদন বাতিল করে দিবেন ।

এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে আদালত যেইরুপ আদেশ দিবেন (খরচ/ সময় বেধে দিবেন) তা মানতে ব্যর্থ হলে পূর্ববর্তী মূল মোকদ্দমা পুনরায় চলমান হবে। 


আদালত নতুন করে একই বিষয়ে মোকদ্দমা দায়ের করার অনুমতি দিলে তা দো-বারা (Res-judicata)  নীতি দ্বারা বারিত হবে না। 

মোকদ্দমা প্রত্যাহার বা সমন্বয়ের আদেশ হলে তা আপীল করা যায় না, এক্ষেত্রে রিভিশন করতে হয়।  


All publications on this website are only for educational purposes. So if there is any unintentional mistake, please forgive and let me know, so that I can correct it. I always respect and obey the law of Bangladesh.